1. iliycharman7951@gmail.com : admin :
সড়ক ও জনপদ বিভাগের শতকোটি টাকার সম্পত্তি জবরদখলের মহোৎসব - matamuhuri - মাতামুহুরী
শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
WolfWinner Gambling establishment Evaluation সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই–হাইকোর্ট শহীদ দৌলত দিবস জাতীয়ভাবে পালনের দাবী তার সহকর্মীদের চকরিয়ায় টমটম গাড়ি চালক ওমর সানি খুনের মূলপরিকল্পনাকারী রুবেল লামা থেকে গ্রেফতার চকরিয়ায় পুলিশের উপর হামলা গাড়ি ভাঙচুর : আসামি গ্রেফতার আজ ঐতিহাসিক শহীদ দৌলত দিবস চকরিয়া-পেকুয়া আসনে জাতীয় পার্টির হোসনে আরা আরজু’র মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা চকরিয়ায় চালু হওয়া রেললাইনে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে গরুর মৃত্যু মনোনয়নপত্র বাতিল, ব্যাংক ঋণখেলাপী সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপির বিবৃতি  খুটাখালীতে র‌্যাবের অভিযানে সাজাপ্রাপ্তসহ দুই পলাতক আসামি গ্রেফতার

সড়ক ও জনপদ বিভাগের শতকোটি টাকার সম্পত্তি জবরদখলের মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট : রবিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৩
  • ২২৬ পঠিত

কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের মালিকানাধীন চকরিয়া উপজেলার মহাসড়ক লাগোয়া অধিগ্রহণকৃত শতকোটি টাকার সম্পত্তি জবরদখলের মহোৎসব চলছে। এলাকাভিত্তিক আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকর্মী ও থানার ওসির বাড়ি ডাকাতি মামলার আসামি সবাই মিলেমিশে সড়ক বিভাগের জায়গা দখলে নেমেছেন। ইতোমধ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র চকরিয়া উপজেলার মহাসড়ক এবং পেকুয়া উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়কের পাদদেশে সড়ক বিভাগের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের অধিগ্রহণ করা জমি দখল করে নিয়েছেন।
একই কায়দায় উপজেলার বরইতলী (একতাবাজার) এলাকায় এখনো অব্যাহত রয়েছে সড়ক বিভাগের জায়গা দখলের প্রক্রিয়া। ওই এলাকায় জেলা পরিষদের যাত্রী চাউনির পাশে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে জবরদখলে নেওয়া সড়ক বিভাগের জমিতে তৈরি করা হয়েছে অবৈধ দোকানপাট। অবশ্য জবরদখলের বিষয়টি অকপটে স্বীকারও করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি জায়গা সবাই দখল করছে, আমি অল্প জায়গা নিলাম, এতে দোষের কী। তিনি সুর পাল্টিয়ে বলেন, সরকারি জায়গা, সরকার যখনই চাইবে, ফেরত দিয়ে দেব। সেইজন্য তো আমি কাঠের অবকাঠামো দিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করেছি, যাতে সহজে ভেঙে ফেলা যায়।
এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলামের দেখা দেখিতে সম্প্রতি সময়ে বরইতলী গরুবাজার এলাকায় উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত কর্তৃক উচ্ছেদ করা সড়ক বিভাগের জায়গায় আবারও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন মোহাম্মদ জায়েদ নামের আরেক প্রভাবশালী। তার পাশের সড়ক বিভাগের জায়গা কোরবানি ঈদের রাতে দখলে নিয়েছেন বরইতলীর বাসিন্দা পুলিশের ওসি নিজাম উদ্দিনের বাড়ি ডাকাতি মামলার আসামি নুরুল আমিন নামের অপর দখলবাজ। সেখানে তিনিও সেখানে অবৈধ দোকানঘর নির্মাণ করে রীতিমতো ব্যবসা শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে অভিযুক্ত দখলবাজ চক্রের সংশ্লিষ্টদের উচ্ছেদ-নোটিশ দেওয়া হলেও জড়িতরা তা তোয়াক্কা না করে চকরিয়া উপজেলার মহাসড়ক ও পেকুয়া উপজেলার আঞ্চলিক মহাসড়ক লাগোয়া সড়ক বিভাগের সরকারি জায়গা দখলে মেতে উঠেছে। বিশেষ করে কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমির দাম বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়কের জমি দখলের মহোৎসব। পর্যাপ্ত জনবল সংকটের পাশাপাশি নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী না থাকার কারণে সরকারি কোটি কোটি টাকার ভূসম্পত্তি রক্ষায় অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছেন সড়ক বিভাগের লোকজন।
জানা গেছে, জাতীয় মহাসড়কের আওতাধীন চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা মাতামুহুরি সেতু থেকে থানা রাস্তার মাথা পর্যন্ত চকরিয়া পৌরশহরের ১ কিলোমিটার সড়ক। এই সড়কের জন্য ১৯৫৫ সালে জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল ৩২.৫১ একর। সেই জমি থেকে ২০ একরের বেশি এখন বেদখলে চলে গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী দখলবাজরা মূল্যবান এই জমিতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলে দিব্যি ব্যবসার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। চকরিয়া পৌরশহরের জমজম হাসপাতাল এলাকায় সড়ক বিভাগের জায়গা দখলে নিয়ে বিশাল বাণিজ্যিক মার্কেট বানাচ্ছেন দুবাই এহেছান। পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় সড়ক বিভাগের জায়গার ইতোমধ্যে অবৈধ মার্কেট গড়ে তুলেছেন দুবাই মঈন উদ্দিন। পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় এখনো চলছে জবরদখল কারবার।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চকরিয়া পৌর শহরের এই ১ কিলোমিটার এলাকার সড়কের জমির মূল্য এখন আকাশচুম্বী। প্রতি গন্ডা জমির মূল্য কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা করে ২০০ কোটি টাকা মূল্যের ২০ একরের বেশি সড়কের জমি প্রভাবশালীরা দখলে নিয়েছে। এভাবে চকরিয়া ও পেকুয়ায় ১১টি সড়কের অধিগ্রহণ করা কয়েক শতকোটি টাকা মূল্যের জমি প্রভাবশালী দখলবাজ চক্রের দখলে রয়েছে।
সরকারি বিপুল পরিমাণ ভূসম্পত্তি অবৈধ বেদখলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া সড়ক উপ-বিভাগের উপ সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম। তিনি বলেন, চকরিয়া ও পেকুয়ায় সওজের তত্বাবধানে ১১টি সড়ক রয়েছে। তবে আমরা সড়কের জন্য অধিগ্রহণ করা ও বেদখল হওয়া মোট জমির পরিমাণ এখনো নির্ণয় করতে পারেনি।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের লোকজন জানিয়েছেন, সাম্প্রতিককালেও এলজিইডি থেকে কয়েকটি সড়ক সওজে ন্যস্ত হয়েছে। কিছু জমির বিএস রেকর্ড হয়েছে ব্যক্তির নামে। নতুন পুরাতন রেকর্ড সমন্বয় করা গেলে অধিগ্রহণের মোট পরিমাণ বলা যাবে।
চকরিয়া সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশক্রমে বরইতলী একতাবাজার (গরুবাজার) এলাকার জাতীয় মহাসড়কের বেদখল হওয়া বিপুল পরিমাণ জমি প্রভাবশালীদের খপ্পর থেকে উদ্ধার করলেও পরে দখলবাজরা পুনরায় ওই জমি নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে আবারও সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছে। অনুরূপভাবে সড়কের স্টেশন এলাকায় জমি দখল করা ৫০ জন দখলবাজকে নোটিশ দেয়া হয়েছে গত ১ বছরে। তাদের বলা হয়েছে, অবৈধভাবে সড়কের জমিতে নির্মিত অবৈ স্থাপনা সরিয়ে নিতে। এরপরও তারা নোটিশের আদেশ না মানায় মৌখিক ও লিখিতভাবে দখল নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের চকরিয়া উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাহাত আলম বলেন, এখানে সড়ক বিভাগের জায়গা দখলে জড়িতরা ‘অতি প্রভাবশালী, আবার অনেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী। মুলত এই অতি প্রভাবশালীরা সড়কের জমি দখলে নামলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। এই অবস্থায় আমরা নোটিশ প্রদান ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জবরদখলের তথ্য অবহিত করে থাকি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ‘রেলওয়েতে নিজস্ব পুলিশ বাহিনী রয়েছে। আমাদের কোন সশস্ত্র বাহিনী নেই। তাই সরকারি জমি বেদখল ঠেকানো অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপরও অতিসম্প্রতি চকরিয়া পৌরশহরে জবরদখলকৃত একটি জমির ফটক ও ঘেরা গুঁড়িয়ে দিয়ে উদ্ধার চেষ্টা চালানো হয়। অভিযুক্ত দখলবাজরা এতোই শক্তিশালী যে, প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়ে আমাদের উচ্ছেদ অভিযানে বাঁধা ও হুমকি দিয়েছে। উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টা পরই ফের ঘেরা বেড়া দিয়ে তারা ওই জায়গা দখল করে নিয়েছে।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহে আরেফীন বলেন, ‘নানা জটিলতায় চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় মহাসড়ক লাগোয়া সড়ক বিভাগের অধিগ্রহণ ও বেদখলের জমির সঠিক পরিমাণ এখন বলা যাচ্ছে না।’ তবে আমরা ইতোমধ্যে, ‘আরএস রেকর্ডমূলে সড়কের জন্য যেসব জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কোন না কোন দপ্তরের ভুলে সড়কের বিপুল জমি ব্যক্তির নামে বিএস রেকর্ড হয়েছে তা উদঘাটন করে রেকর্ড সংশোধনের জন্য ইতোমধ্যে ৫৩টি মিচ মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আদালতের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধন মামলার রায় ডিগ্রির আলোকে বেদখল হওয়া সড়ক বিভাগের বিপুল পরিমাণ ভূসম্পত্তি অচিরেই উদ্ধার করা হবে। পাশাপাশি হালনাগাদ জবরদখলে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী একতাবাজার এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর

© All rights reserved © 2019 LatestNews
Theme Customized BY Iliaych