রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
এবার ঈদে ঘরমুখো মানুষদের যাত্রা পথ সহজ ও নিরাপদ করতে সড়কের পাশে অবৈধ হাটবাজার ও স্থাপনা উচ্ছেদ কক্সবাজারের ট্রেনের টিকিট যাচ্ছে কোথায়? চকরিয়ায় জেলে কার্ড দেয়ার প্রলোভনে টাকা আত্মসাত মৎস্য অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা চকরিয়ায় অটোরিকশার নিচে চাপা পড়ে যুবক নিহত জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কমরুউদ্দিনের জানাজায় শোকাহত মানুষের ঢল চকরিয়ায় হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার চকরিয়ায় এক ওয়ার্ডের বরাদ্দের টাকা অন্য ওয়ার্ডের রাস্তার কাজ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের পাঁয়তারা? বমুবিলছড়ি ইউনিয়নে গোদী নিলামে অনিয়মের অভিযোগ প্রথম আলো বন্ধুসভা চকরিয়ার বন্ধু বরণ ও ইফতার মাহফিল কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশের স্মার্ট কক্স-ক্যাব

চকরিয়ায় জেলে কার্ড দেয়ার প্রলোভনে টাকা আত্মসাত মৎস্য অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

এম জিয়াবুল হক :
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪
  • ১০২ পঠিত

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা হতদরিদ্র জেলে জনগোষ্ঠীকে সরকারিভাবে জেলে কার্ডের নিবন্ধনভুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা আত্মসাত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জেলেদের পক্ষে জামাল উদ্দিন ও বশির আহমদ নামের দুইজন জেলে বাদি হয়ে ইতোমধ্যে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে উপজেলা মৎস্য বিভাগের মেরিন ফিশারিজ অফিসারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা করেছেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে, চকরিয়া উপজেলা মৎস্য অফিসের মেরিন ফিশারিজ অফিসার এজেএম মোছাদ্দেকুল ইসলাম, মৎস্য বিভাগের দুই অফিস সহকারী ইকবাল ও জাহাঙ্গীর। তাদের মধ্যে অফিস সহকারী ইকবাল চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট এলাকার মো: ফারুক মিস্ত্রির ছেলে ও জাহাঙ্গীর উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের এনাম উল্লাহর ছেলে। অপরদিকে বাদি জামাল উদ্দিন চকরিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড পালাকাটা এলাকার মৃত আবুল কাশেম এর ছেলে এবং অপর বাদি বশির আহমদ উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ওসমান গনির ছেলে।

বৃহস্পতিবার মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদিপক্ষের কৌশলী চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের আইনজীবী এডভোকেট মিজবাহ উদ্দীন। তিনি বলেন, আদালতে দুইজনের ফৌজদারি অভিযোগ আমল নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করতে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) রাকিব উর রাজাকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদি ও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবি জেলে সমিতি চকরিয়া উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, বিগত সময়ে চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেদের নিবন্ধনভুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হলে আমি সমিতির সদস্য এবং জেলে কাজে সম্পৃক্ত মোটর ১৫৩ জন প্রান্তিক জেলেকে সরকারিভাবে নিবন্ধনভুক্ত করত: জেলে কার্ড দিতে চকরিয়া উপজেলা মৎস্য বিভাগে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে সুপারিশ করি। এই অবস্থায় অভিযুক্তরা গোপনে আমাকে জানায়, সবাইকে নিবন্ধনভুক্ত করে জেলে কার্ড দেওয়া হবে। সেইজন্য জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে দিতে হবে।

বাদি জামাল উদ্দিন এজাহারে বলেন, অভিযুক্তদের সাড়া পেয়ে আমি প্রতিজন থেকে ২ হাজার টাকা করে তুলে ২০২২ সালের ৮ জুন তারিখ সকাল আনুমানিক দশটার দিকে চকরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে ১৫৩ জনের বিপরীতে নগদ ৩ লাখ ২৬ হাজার ঘুষ প্রদান করি। এরপর অনেকদিন চলে যায়। কিন্তু জেলে কার্ড হয়না। এই অবস্থায় সর্বশেষ চলতি ২০২৪ সালের ৪ মার্চ তারিখে উপজেলা মৎস্য অফিসে গিয়ে জেলে কার্ড এতদিন কেন হচ্ছে না জানতে চাই আসামিদের কাছে। উত্তরে তাঁরা আমাকে বলে, আর কিছুদিন সময় লাগবে। অপেক্ষা করতে হবে। এই অবস্থায় আমি কার্ড দিতে হবে না, আমার জমা দেওয়া ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ফেরত চাই। এরই একপর্যায়ে অভিযুক্তরা আমার কাছ থেকে ঘুষ বাবত নেওয়া ৩ লাখ ২৬ টাকার বিষয়ে অস্বীকার করে। এতে আমি নিরুপায় হয়ে গত ১৮ মার্চ আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। এখন আমি হতদরিদ্র জেলেদের জমা দেওয়া টাকা ফেরত পেতে বিজ্ঞ আদালত ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে একই আদালতে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে একইদিন আরও একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী বশির আহমদ।

তিনি বলেন, আমার এলাকার ৩৭ জন জেলেকে সরকারিভাবে নিবন্ধনভুক্ত করে জেলে কার্ড দেয়ার কথায় প্রতিজন থেকে ৩ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ১১ হাজার টাকা নিয়েছেন অভিযুক্তরা। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাঁরা জেলে কার্ড দিচ্ছে না। কেন গড়িমসি করা হচ্ছে চকরিয়া উপজেলা মৎস্য অফিসে গিয়ে জানতে চাইলে উল্টো অভিযুক্তরা আমাকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। এখন তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় আমি এবং অপর মামলার বাদি জামাল উদ্দিনকে মানহানি মামলা করে জেলের ভাত খাওয়াবে বলেও শাসাচ্ছেন। আমরা দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তা কর্মচারীদের কবল থেকে আত্মসাতকৃত গরীবের টাকা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ চাই। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত মেরিন ফিশারিজ অফিসার এজেএম মোছাদ্দেকুল ইসলাম এর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তাঁর মোবাইলে কল দেওয়া হলেও সংযোগ লাইন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারহান তানজিম। তিনি বলেন, বাদি জামাল উদ্দিন ও বশির আহমদ মামলা করার আগে উল্লেখিত ঘটনা নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। ওইসময় আমি বাদি দুইজনের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত তিনজনের কাছে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাই। উত্তরে আমার তিন কর্মকর্তা কর্মচারী জেলে কার্ড দেয়ার বিনিময়ে টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আবারও দুই বাদি কীভাবে কখন অভিযুক্তদের হাতে টাকা দিয়েছে, তার সঠিক প্রমাণ দিতে পারেননি। তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে এখন আদালতে মামলা হয়েছে। তদন্তের জন্য পুলিশের এএসপিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশাকরি তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

 

https://www.facebook.com/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2018 News Smart
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com